Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা।

 

বেসরকারী শিল্প উদ্যোক্তাদের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে কুমিল্লা সদরে অশোকতলায় ৫৪.৩৫ একর জমির উপর বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বরাদ্দযোগ্য ১৪৯টি প্লট ১৪২ টি শিল্প ইউনিটের অনুকুলে বরাদ্দ প্রদান করা হয় । বর্তমানে ১৩০টি শিল্প কারখানা চালু আছে।  এসব শিল্প কারখানায় বছরে প্রায় ২২০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে  প্রায় ৫৭৯০ জন লোকের । এ শিল্পনগরী থেকে ভ্যাট, আয়কর ইত্যাদি   বাবদ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৎসরে প্রায় ১২.৩৫ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে  জমা হয়।

 

বিসিক শিল্পনগরী চৌদ্দগ্রাম,কুমিল্লা।

 

কুমিল্লা শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সদরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১১.০২ একর জমির উপর ১৯৮৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী চৌদ্দগ্রাম প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে মোট বরাদ্দযোগ্য প্লট সংখ্যা ৮৩টি । ৬৯ টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে উক্ত প্লটসমূহ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ৪২টি শিল্প ইউনিট বর্তমানে উৎপাদনরত। অন্যান্য ইউনিট নির্মানাধীন। উৎপাদনরত শিল্পগুলোতে  বছরে ৬০.০০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে  প্রায় ১২০০ জন লোকের । শিল্পনগরী থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স খাতে বৎসরে প্রায় ১.৫০ কোট টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়।

বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা-২।

কুমিল্লা শিল্পনগরী-২ একটি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প । ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দেবিদ্বার উপজেলার কুরচাপ, সফিনগর ও সানারনগর মৌজার সমন্বয়ে ২০ একর জমিতে শিল্পনগরী স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমনে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে প্রকল্পের জমি অথিগ্রহনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত মোট ব্যয়  ১৭৪৬.০০ লক্ষ টাকা। ইতি মধ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাবিত জমির মুল্য ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্দি পাওয়ায় মোত প্রকল্প ব্যয় ৩১৬০.০০ লক্ষ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। এ শিল্প নগরীতে ১৬২টি  প্লট শিল্প স্থাপনের জন্য প্রস্ত্তত করা হবে । উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায়  ৫০০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

 

নৈপুন্য বিকাশ কেন্দ্র

 

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে ট্রেড  ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিসিক শিল্পনগরী,কুমিল্লায় একটি নৈপূণ্য বিকাশ কেন্দ্র রয়েছে। ১৯৮৫ সাল থেকে  এ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। জুন-২০০৯ পর্যন্ত রেডিও,টিভি মেরামত ট্রেডে ৪২০ জন, ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং ট্রেডে ১৪৬০ জন এবং  মেশিনসপ ট্রেডে ৪৭৮ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের অধিকাংশেরই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হযেছে।

 

কয়েকটি বিশেষ প্রকল্পের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপঃ

 

আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পঃ

 

অনুর্ধ  ৪০ বৎসরের নূন্যতম এস,এস,সি পাশ যুবক-যুবতী  ও স্বল্প শিক্ষিত  কারুশিল্পীদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সা^াবলম্বী  করে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মার্চ-২০১১ পর্যন্ত  ৭০৫ টি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইউনিটের মাঝে ২১২.৩৮ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৭০০ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ছে।

 

দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীঃ

 

বুড়িচং থানার দারিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থিক অবস্থার উন্নয়কল্পে ১৯৯৬ -৯৭ অর্থ বছরে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর  নামে এ কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১১২০ জনের মধ্যে ৯২.৯০ লক্ষ টাকা  বিতরণ করা হয়েছে।

 
  

 

 

 

 

 

মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচীঃ

 

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের আয়বর্ধক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলার চান্দিনা,লাকসাম, সদর দক্ষিণ ও  সদর উপজেলায় মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচী চালু রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৫৯০৭ জন মহলিাকে ৪৮৬.৯৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

 

মোŠমাছি পালন প্রকল্পঃ

 

বিসিকের প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্প। মৌমাছি শস্য ও ফুলের পরাগায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে শস্য  ও ফলের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি আয়বর্ধক কর্মকান্ড হিসাবে  মধু সংগ্রহের গুরুত্ব অপরিসীম।ু বিসিক ১৯৮২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কমিল্লা জেলায় ৫৪০ জনকে মৌপালন ও মধু সংগ্রহের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষিত প্রত্যেক মৌপালককে একটি করে মৌবাক্স ও প্রতি ১০ জনের জন্য একটি মধু নিষ্কাশন যন্ত্র বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।বর্তমানে প্রকল্পেটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়ে ৬টি বিভাগীয় মৌ-বিভাজন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং মৌ-কলোনী উৎপাদন ও বিভাজন কার্যক্রম চলছে। উল্লেথ্য যে,চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৌ-বিভাজন কেন্দ্রটি কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলাস্থ  বাগমারায় অবস্থিত।

 

সি আইডিডি প্রকল্পঃ

 

বাংলাদেশে সর্বত্রই খাদ্যে আয়োডিনে কমবেশী  অভাব রয়েছে। আয়েডিনের অভাবে শিশু হাবা-গোবা, ট্যারা,বামন হয়। গলগন্ড আয়োডিন অভাবজনিত একটি প্রত্যক্ষ রোগ। তাছাড়া আয়েডিনের অভাবে গর্ভবর্তী মায়েদের গর্ভপাত হতে পারে। একজন সুস্থ্য মানুষের জন্য সারাজীবনে  ৩০ গ্রাম আয়োডিন প্রয়োজন। লবণ যেহেতু  অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সেহেতু লবণের মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতি পুরণের জন্য ইউনিসেফের  সহায়তায় বিসিক লবণ কারখানা সমূহে বিনা মূল্যে আয়োডিন মিশ্রনের যন্ত্র (যার মূল্য ৬ লক্ষ টাকা) এবং আয়োডিন সরবরাহ করছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশের  ন্যায় কুমিল্লা জেলাতেও  এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আয়োডিন বিহীন লবণ খোলা বাজারে বিক্রয়, প্রদর্শন ও মজুদ বন্ধের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা লবণ কমিটি রয়েছে। এ  কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে বাজারে আয়োডিন বিহীন লবণ নেই  বললেই চলে।উক্ত প্রকল্পের আওতায় জেলা লবণ কমিটির ১৫টি সভা,১৯টি মোবাইল কোর্ট,১১টি উপজেলা লবণ কমিটি সভা,লবণ জরিপ ৫ বার,টেষ্টিং কিটস বিতরণ ১২০০০টি লিফলেট ও পোষ্টার বিতরণ ১৫০০০টি এবং ৬০০টি টিনপ্লেট বিতরণের কাজ সম্পাদন করা হয়।তাছাড়া হাইস্কুল/মাদ্রাসা পর্যায়ে  ২৮টি এ্যাডভোকেসি সভা ও শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে প্রায় ২৭০০০ শিক্ষার্থীকে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়এবং আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার,বিক্রয় ও গুদামজাত না করার জন্য জেলা ও উপজেলা সদরে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।কার্যক্রমটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে বিসিকের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণমূলক কর্মকান্ড সম্পাদনকালে ঐ এলাকার হাট-বাজারে টেষ্টিং কিট্সের মাধ্যমে লবণ পরীক্ষা করে থাকে।বিষয়টি মনিটরিংএর সুবিধার্থে প্রতিমাসে উৎপাদিত আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের নিকট প্রেরণ করা হয়।